মানবতা আর মধ্যপ্রাচ্য
এই টিন এজার ছেলেটির বিস্তারিত পরিচয়ে যাব না। দুবাইয়ের অন্য আরো শত বিলিওনিয়ারের ছেলেদের মধ্যে সেও একজন। তাদের শখের সীমা নেই। আমাদের মত দেশ থেকে শিশু পাচার করে নিয়ে উটের জকি হিসাবে ব্যবহার করে উটের রেস, পুরো প্লেন ভাড়া করে বাজপাখি নিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া, লক্ষ টাকার শত শত জুতো জোড়া সংগ্রহ করা, শত শত মডেলের দামী গাড়ি কিনে ফেলে রাখা, সোনার তৈরি আধুনিক হুক্কা বা সীসার পাত্র এমন কত কি ! এই ছেলের একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেখানে প্রায় ১৮ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার তার। চ্যানেলের নাম দেখলেই বোঝা যায় টাকার গরম অন্যদের দেখানোই মূল উদ্দেশ্য। সেখানে তার ব্যক্তিগত লাইফ স্টাইল, ফ্যাশন, অযথা অপচয় এগুলো তুলে ধরে সে। বিশ্বের নামী দামী সেলিব্রেটি যেমন কার্দাশিয়ান, মেসি, শহরুখ খান, সালমান খান, শিল্পা শেঠী এদের সঙ্গে ছবি তোলাও তার শখ। তবে সে তাদের কাছে যায় না। কোটি কোটি টাকা খরচ করে তাদেরকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। পার্সোনাল হেলিকপ্টারে করে স্কুলে যাওয়া, ব্যক্তিগত জেট বিমানের মডেল চেঞ্জ করা এগুলো তো মামুলি ব্যাপার তাদের কাছে। গাড়ির ডিজাইন তারা দেয়, কোম্পানি সে মতো তৈরি করে দেয়। তো এই হলো গড়পড়তা মধ্যপ্রাচ্যের কুয়ার তেল বেঁচে কলাগাছ হওয়া এক ধনীর ছলের জীবন। এইত গত শতাব্দীতেও যারা মরুভূমির মিসকিন ছিলো।
.
তাদের ঠিক পাশেই ইয়েমেন, সিরিয়ায় কত লক্ষ শিশু না খেতে পেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে।
.
অন্যদিকে বিশ্বের সেরা ধনীদের দেখুন, বিল গেটস তার সম্পদের কিছুই তার ছেলে-মেয়েদের জন্য রেখে যাবেন না। সবটাই দান করে যাবেন মানবতার কল্যানে। বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন খাওয়ানো হয় তার টাকায়। প্রযুক্তি জগতের কোটিপতি এমন কিছু মহানুভব মানুষ আছেন যাঁরা নিজেদের পরিবারের বাইরের মানুষের কথাও চিন্তা করেন। এরা সবাই দুবাইয়ের ঐ সমস্ত বিলিওনিয়ারদের ১০ বার কিনতে পারেন। বিল গেটস, স্টিভ কেজ, মার্ক বেনিয়ফ, আরউইন জ্যাকবস, গর্ডন মুর, এলন মাস্ক ও ল্যারি পেজ সেই মহানুভব মানুষের তালিকায় শীর্ষে থাকবেন নিঃসন্দেহে। নিজেদের সন্তানের জন্য নয়, তাঁদের বেশির ভাগ অর্থসম্পদ তাঁরা দান করেছেন মানুষের কল্যাণে। গুগলের নির্বাহ ল্যারি পেজ বলেছেন তাঁর বিলিয়ন ডলার অর্থ সম্পদ দুই সন্তানকে দেওয়ার চেয়ে এলন মাস্কের মতো উদ্যোক্তার হাতে দেবেন যিনি পৃথিবী বদলে দেওয়ার মতো ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
.
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই যে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা কামাচ্ছে প্রকৃতি প্রদত্ত কুয়ার তেল বেঁচে, বিনা পরিশ্রম ও মেধায়, এদের কি অবদান আছে মানব সভ্যতা বিকাশে, জ্ঞান বিজ্ঞানের গবেষনা, শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া বা মানবতার কল্যানে ? কিছু নেই। আপনি আমাদের দেশেই চারিপাশে যত দাতব্য হাসপাতাল দেখবেন তার কোনটাতেই তাদের কোন অবদান নেই। অথচ আমাদের জন্য বছরে শত শত স্কলারশিপ দিয়ে শিক্ষার সুযোগ করে দেয়া ইউরোপ আমেরিকাকে সকাল বিকাল গালি দেন আপনারা আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ও মানুষকে ভাবেন পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানুষ ! প্রথম প্যারার লেখাগুলোই হলো ঐ অঞ্চলের মানুষের মনস্তত্ব। এদের অনুসরন করে কি কোন লাভ আছে মানবতার ?
Comments
Post a Comment